আজ পবিত্র শবে বারা’ত

শবে বরাত (লাইলাতুল বরাত‎) বা মধ্য-শা’বান হচ্ছে আরবী শা’বান মাসের ১৫ তারিখে পালিত একটি পূণ্যময় রাত।

আজ দিবসের আলো পশ্চিমে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে কাঙ্খিত এই রজনী,পবিত্র শবে বারা’ত।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন করেন। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। এই রাতকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বলা হয়। ‘বারাআত’ নামক আরবি শব্দটির অর্থ নিষ্কৃতি। মুসলমানদের বিশ্বাস মতে, এ রাতে বহু সংখ্যক বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও আশীর্বাদ লাভ করে জাহন্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেন। তাই, এ রজনীকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা ‘নিষ্কৃতির রজনী’ বলা হয়।

শবে বরাত সংক্রান্ত বর্ণনায় কোন কোন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়, এ রাতে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রেমসিক্ত ধর্মপরায়ণ বান্দাদের মাঝে তাঁর রহমত ও বরকত বর্ষণ করেন।

মুরতাদ্বা থেকে বর্নিত, নবী করিম (সা) এর বানী, যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোযা রাখো ।

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লী বর্ষন করেন, এবং ইরশাদ করেনঃ কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দিব ! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব ! কেউ কি আছ মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্ত প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকবেন।

— সুনানে ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮
বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান,সিরিয়ার কিছু এলাকায় ঘটা করে শবে বরাত পালিত হয়। তবে পবিত্র মক্কা-মদীনা,আরবসহ বিশ্বের কোথাও শবে বরাত পালন করা হয় না।

এই রাতেই পরবর্তী বছরের মৃত্যুবরণকারী মানুষ এবং পরবর্তী বছরের জন্মগ্রহণকারী শিশুদের তালিকা করা হয়। রাতভর নামাজ,কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া মাহফিল, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি ইবাদতে মগ্ন থাকাই এ রাতের প্রধান শিক্ষা,যে শিক্ষা জীবনব্যাপী অব্যাহত রাখার তাগিদ।

যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ পবিত্র শবে বরাত উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ রাতভর ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকারের ব্যবস্থা করেছে। বাদ এশা থেকে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ ওয়াজ করবেন। ফজরের নামাজ শেষে ভোরে মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।

শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে। এ রাতের তাত্পর্য তুলে ধরে রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্র প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণীতে পবিত্র শবেবরাতের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবার প্রতি মানব কল্যাণে ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: