আজ দিবাগত রাতেই পালিত পবিত্র লাইলাতুল কদর

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর

পবিত্র কোরানে এই রজনী মহিমান্বিত রজনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে শব-ই-কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শব-ই-কদরের রজনীতে যে ব্যক্তি সারারাত ইবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন থাকবে সে হাজার মাসের ইবাদতের ভাগীদার হবে।

এই রাতেই পবিত্র গ্রন্থ আল কোরান নাজিল করা হয়েছে। ফলে আজকেই এই রাতে সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভে ইবাদত-বন্দেীতে মশগুল থাকবে।

পবিত্র গ্রন্থ কোরানের একাধিক জায়গায় এ রাতের মহত্ত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া এ রজনীর গুরুত্ব ফজিলত বর্ণনা করতে আল ক্বদর নামে আলাদা একটি সূরা নাজিল করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে ‘আমি একে নাজিল করেছি

শব-ই-কদরে। শব-ই-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? শব-ই-কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবর্তীর্ণ হয় তাদের পালন কর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আজ মঙ্গলবার ২৬ রমজান। এদিন শেষে যে রাত্রি ধরণীতে আগমন করবে তা শব-ই-কদর বা মহিমান্বিত রজনী হিসেবে পরিচিত।

এই রজনীতেই পবিত্র গ্রন্থ আল কোরান নাজিল হয়েছে লওহে মাহফুজ থেকে। আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সারারাত অতিবাহিত করবেন। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানী এবং দেশের সকল মসজিদে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদেরে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

লাইলাতুল কদর বা শব-ই-কদর অর্থ সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ রাত। ইসলামের পরিভাষায় বছরের যে কটি দিন ও রাত বিশেষভাবে মহিমান্বিত, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ এই শব-ই-কদর। পবিত্র রমজানের এ রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্ন আকাশে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়।

কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত, তেমনি কুরআন নাজিলের কারণেই শব-ই-কদর অতি ফজিলত ও তাৎপর্য বহন করে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে কোরানের একাধিক জায়গায় বর্ণণা করা হয়েছে। লায়লাতুল কদর এমন এক রাত যে রাতে আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করেন।

তার সময় নির্দিষ্ট করেন এবং হুকুম নাজিল করেন ও প্রত্যেক বস্তুর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। এ রাতে ফেরেশতাগণ রবের নির্দেশে সকল কার্য সম্পাদনের জন্যে নেমে আসেন। লায়লাতুল কদর এমন এক রাত আল্লাহর নিকট যার বিরাট মহত্ত্ব ও ফজিলত রয়েছে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে রাসুল (সা) বলেন, তোমাদের নিকট রমজান উপস্থিত হয়েছে।

এরমধ্যে এমন একটি রাত আছে যা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। তিনি এ রাত সম্পর্কে আরও বলেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় ইবাদত করে তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারি)

তবে সাধারণভাবে ২৬ রমজান দিবাগত রাতে শব-ই-কদর পালন করা হয়ে থাকলেও ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোন বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।

এ কারণেই বিশ্বের সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রজনীতেই শব-ই-কদরের রাত হিসেবে ইবাদত বন্দেগী করে থাকেন। তাঁদের মতে, লাইলাতুল কদর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর উম্মতদের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও নেয়ামত। আর কোন নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ রাত বা দিন দান করা হয়নি।

আগের যুগের উম্মতেরা অনেক আয়ু পেতেন। সেজন্য তারা অনেকদিন ইবাদত করারও সুযোগ পেতেন। সে তুলনায় শেষ নবীর উম্মতদের আয়ু নিতান্তই কম। এজন্য আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ দয়ায় মহানবী (সা)-এর উম্মতকে মহিমান্বিত এ রাত দান করেছেন। যারা এ রাতে ইবাদত করে কাটাবেন তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

এদিকে পবিত্র এই রজনী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য সারাদেশের মুসলমানরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। রজনীটি মহামান্বিত হলেও এ রজনীতে নির্দিষ্ট কোন ইবাদত-বন্দেগী নেই। কোরান তেলোয়াত থেকে শুরু করে, নফল সব ধরনের ইবাদত-বন্দেীতে মশগুল থাকবে মুসল্লিরা।

এদিকে দেশের অন্যান্য মসজিদের ন্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের এ দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানসূচী নেয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উদ্যাপিত হবে।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুপুর ২.০০ টায় (বাদ যোহর) বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শিরোনামে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ করবেন রাজধানীর মিরপুরস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা আবদুল মুকিত আল আজহারী।

এছাড়া একইদিনে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে তারাবীহ নামাজের পর রাত ১০.৪৫টায় ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত ও করণীয়’ শিরোনামে ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়াজ পেশ করবেন ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এছাড়া ঢাকার অন্যান্য মসজিদগুলোতে এ উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।

এসব মসজিদগুলোতে আলেমগণ লায়লাতুল কদরের তাৎপর্যের ওপর আলোচনা করবেন। এছাড়া এ রাতে কোরান তেলাওয়াত, তাছবীহ্ তাহলীল, নফল নামাজ, জিকির ও অন্যান্য এবাদতের আয়োজন করা হয়েছে মসজিদে মসজিদে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: