fbpx

বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া।
ক্রোয়েশিয়ার হয়ে একটি করে গোল করেন ইভান পেরিসিচ ও মারিও মানজুকিচ। ফ্রি কিক থেকে ইংল্যান্ডের একমাত্র গোলটি করেন কিয়েরান ট্রিপিয়ের। ১৫ জুলাই ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।

অর্ধশত বছর আগে একবার পেরেছিল। এরপর আর পারেনি। এবার একটা সুযোগ ছিল। ইংলিশরাও আশায় বুক বেঁধে ছিল। তাদের ছেলেরা শিরোপা নিয়েই বাড়ি ফিরবেন। কেনরা বাড়ি ফিরলেন ঠিকই কিন্তু খালি হাতে। শিরোপার এত কাছে এসেও দূরে চলে যেতে হলো তাঁদের। অথচ আর একটা ম্যাচ জিতলেই ফুটবল বিশ্বকাপের মুকুট নিজেদের করে নিতে পারত ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপের শিরোপা আপন ঘরে ফিরে যেত। ফুটবল ফিরত তার নিজের ঘরে। এর কিছুই তো হলো না! ফুটবল তার আপন ঘরে ফিরল না। শিরোপা–নির্ধারণী ম্যাচের আগে সেমিফাইনাল জিততে হয়। সেটাই তো জেতা হলো না। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স ফাইনাল ম্যাচটি মাঠের বাইরে বসেই দেখতে হবে ইংলিশদের।

ইংলিশদের বাগানে ফোটা ফুলগুলো সৌরভ ছড়াতে শুরু করে খেলার প্রথম থেকেই। ৫ মিনিটেই গোল দিয়ে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ক্রোয়াট ফুলের বাগানে চারা লাগায় খেলার প্রথমার্ধে। আস্তে-ধীরে গাছ বড় হয়, কলি থেকে ফুল ফোটে। দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেগুলো সৌরভ ছড়ায়।

৬৮ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে ক্রোয়েশিয়া। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ততক্ষণে বাগান থেকে ফুল তোলার সময় হয়ে যায়। সুযোগ বুঝে ১০৯ মিনিটে জয়সূচক গোল করে ক্রোয়েশিয়া। ইংলিশদের বাগানের ফুল সব তখন ঝরে পড়ে।

শুরুটা জয়ের মতোই করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সে ঢোকার মুহূর্তে ডেলে আলিকে ফাউল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মডরিচ। গোলপোস্টের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি কিকে ক্রোয়াটদের বুকে ছুরি চালান কিয়েরান ট্রিপিয়ের। নকআউট পর্বে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোল এটি।

২২ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন গোল ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন। ২৯ মিনিটে এসে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইংল্যান্ড। এবারও কেনের মিস। এরপর প্রতি–আক্রমণে উঠে আসে ক্রোয়েশিয়া। ইংলিশদের ডি–বক্সে ভয় ধরিয়ে দেন আন্তে রেবিচ। তাঁর শট আটকে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ড ১-০ ক্রোয়েশিয়া স্কোরলাইনে।

সমতায় ফিরতে মেলা সময় নেয় ক্রোয়েশিয়া। ওই যে বাগানে ফোটা কলিগুলো ফুল হয়ে পাপড়ি মেলেনি তখনো। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮ মিনিটে এসে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরিসিচ। সিমে ভরসালিয়োকোর হাওয়ায় ভাসানো ক্রস উঁচুতে উঠে পা ছোঁয়ান পেরিসিচ। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া।

এর আগে ৬৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার। সমতায় ফিরে ক্রোয়েশিয়ার খেলায় গতি আসে। সমতাসূচক গোলের মিনিট দুয়েক পর পেরিসিচের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে ক্রোয়েশিয়া দুই নম্বর গোলটি তখনই পেত। ৮২ মিনিটে এসে আবারও সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। মারিও মানজুকিচের ক্রস থেকে মার্সেলো ব্রোজোভিচের ভলি দুর্দান্তভাবে আটকে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড।

এত এত মিসের কী কারণ হতে পারে? কারণ হয়তো একটাই। ভাগ্যদেবী ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছে অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত সময়ের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের খেলাও প্রায় শেষ, আর ১১ মিনিট বাকি।

ইংলিশদের চোখে–মুখে তখন টাইব্রেকারের ভয়। তখনই জয়সূচক গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। কিছু সময় আগেই বল নিয়ে ডি–বক্সে ঢোকার মুহূর্তে পিকফোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে কাতরাচ্ছিলেন মানজুকিচ। সেই মানজুকিচের গোলেই জয় পায় ক্রোয়েশিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *