সিইসি কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে তারা অবিলম্বে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতিতে এ দাবি জানান ঐক্যফ্রন্টের  মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, রক্তের হোলি খেলা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মহিলারাও বাদ যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্লজ্জ, অযোগ্য, অকার্যকর নির্বাচন কমিশনকে জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আজকে তারা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চাই। এটা অবিলম্বে চাই।’

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর বিএনপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযোগ করা হচ্ছে ইসিতে। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হলেও ইসি কিছু করছে না। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন ভবনে গেলে সেখানে বৈঠকে সিইসির সঙ্গে কামালের উচ্চবাচ্য হয়। এক পর্যায়ে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই বেরিয়ে আসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করেন কামাল হোসেন। একে ‘মস্তানির’ সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।এরই মধ্যে সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ওপর হামলা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। আহত হন অনেক নেতাকর্মী।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেখিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি হলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। রক্তাক্ত সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীও আক্রান্ত হয়েছেন। কাউকে বাদ দিচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে, এটা কোনো নির্বাচন নয়। বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, অকার্যকর- এটা আজ জাতির সামনে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাই। এখনই চাই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতি পড়ে শোনান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। লিখিত বক্তব্য ফ্রন্টের মুখপাত্র ফখরুল বলেন, “আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এমন একজন মেরুদণ্ডহীন, পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করা অনিবার্য প্রয়োজন বলে মনে করি।

“আমরা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি এবং যথার্থই একজন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানাচ্ছি।” সিইসির সঙ্গে দুপুরের বৈঠক নিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আমাদেরকে বলতে হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের  যুক্তিগ্রাহ্য ও প্রমাণসিদ্ধ বিষয়গুলো অগ্রাহ্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের নেতার ভাষায় অভিযোগগুলো অস্বীকার করে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিলে ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ শুধু ক্ষুব্ধই নন, বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।

“নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান যে এমন অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিতে পারে, তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ হয়েছে যে এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে ক্ষমতাসীন সরকারের অতি বাধ্যগত একজন কর্মচারীর চেয়ে আর বেশি কিছু নন। তার নিকট থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন তো দূরের কথা, নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।”

বিবৃতি পড়ে শোনানোর পর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ইসি ১৯৭১ সালের আল বদর, আল শামস বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিজয়ী করতে। ১৯৭১ সালে জনগণ যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছে ঠিক একইভাবে আগামী ৩০ তারিখের নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে। আমরা বলতে চাই রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো।”