সময় থাকতে শক্ত-হাতে বৈঠা মারো

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সুইট ঃ

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়লেই যে সাংবাদিক হতে পারবে না, ভূগোল-ইতিহাসের ডিগ্রি থাকলেই যে মার্কেটিং এর জবে করতে পারবে না- তা কিন্তু না। বরং সাহিত্যে না পড়েও লেখক হয়। বিবিএ-এমবিএ ছাড়াও বিজনেস করে। সায়েন্সের সাবজেক্টে না পড়েও প্রোগ্রামার হয়। কারণ কারো সাবজেক্ট, ডিগ্রি, এমনকি তার ভার্সিটির নাম-দাম তার ক্যারিয়ারের প্রতিবন্ধক না। দুনিয়ার কোন সার্টিফিকেটই কারো দাম কমায় না, বরং মানুষের অর্জন সার্টিফিকেটের দাম বাড়ায়, প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করে।

success

ইদানীংকালের অনেক চাকরি কোর্স-কারিকুলাম খায় না। স্কিল, নলেজ, লিডারশীপ কোয়ালিফিকেশন খায়। তাই নামহীন ভার্সিটির দামহীন সাবজেক্টের অনেকেই দ্বিগুণ নলেজ, তিনগুণ স্মার্টনেস শো করে সুযোগ ম্যানেজ করে ফেলতে পারে। হয়তো নামি ভার্সিটির দামি সাবজেক্টের সীল থাকলে সেও ইন্টারভিউর ভিআইপি লাইনে থাকতে পারতো। সেই সুযোগ পাচ্ছে না দেখে, পরিশ্রম দিয়ে পুষিয়ে দিচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ পোলাপান স্কিল ডেভেলপমেন্টের কম্পিটিশনে না নেমে, হতাশার এডিকশনে ভোগে। চেষ্টার পিছনে না ছুটে, ঢিলামির বাক্সে বন্দি থাকে। আড্ডার চাদর গায়ে দিয়ে, দুই সেমিস্টারে চার সাবজেক্টে ফেল করে।

তবে হ্যাঁ, অন্য ফিল্ডে সুইচ করো বা না করো, চার বছর পরে জব পাও বা না পাও, এখনকার ডিগ্রি তোমাকে শেষ করতেই হবে। জিপিএটা ভালো রাখতেই হবে। তারপর ক্লাসের পড়া শেষ করে, ইউটিউবে ভিডিও গান কম দেখে, ভিডিও লেকচার বেশি দেখবে। টরেন্ট থেকে সিরিয়াল ডাউনলোড না করে, সফটওয়ারে ডাউনলোড করবে। খেলা দেখা কমিয়ে, ভলান্টিয়ার এক্টিভিটিস বাড়াবে। গুগলে সার্চ দিলে অনলাইনে অনেক অনেক ফ্রি কোর্স পাওয়া যায়, সেগুলা করো। দেখবে, ছোট পুকুরের বড় মাছ হয়ে, বড় পুকুরের অনেককেই পিছনে ফেলে দিছো।

মনে রাখবে, তোমার ভার্সিটির নামদাম নাই দেখে, তুমি বেকার থাকবে না। নিজেকে কম্পিটিটিভ হিসেবে ডেভেলপ করতে না পারলে বেকার থাকবে। জব রিলেটেড ডিগ্রি না থাকায় সব ইন্টারভিউতে রিজেকশন করবে না, বরং ওই ফিল্ডে যারা পড়ছে তাদের চাইতে দ্বিগুণ বেশি স্কিলড না থাকলে রিজেকশন করবে। তাই অন্যদের চাইতে পিছিয়ে পড়ার আগে জীবনের হাল ধরো। সময় থাকতে শক্ত-হাতে বৈঠা মারো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: