fbpx

শিক্ষকের পাশে শিক্ষার্থীবৃন্দ

শিক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন তার শিক্ষার্থীবৃন্দ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ রহিচ উদ্দিন (টিপু) স্যার চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ কালে সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পরে সর্বস্ব হাড়িয়ে বিপর্যয় সীমা পেরিয়ে যখন নিম্ন পেশায় নিমজ্জিত হয়।

ঠিক তখন বিষয়টি গণযোগাযোগে মাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীবৃন্দ দফায় দফায় আলোচনা সভার মাধ্যমে স্যার কে তার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে প্রয়াস চালিয়ে যান।

১৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার  বিকাল ৪টায় কানপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় স্যারকে স্থায়িত্ব করণ ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দেন।

উপরিউক্ত সভায়,কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি ব্যাচ ১৯৯৮-২০২০ইং আর্থিক সহযোগিতায় মোটা অংকের টাকা স্যারের নামে ডিপোজিট করেন। কানুপুর গ্রামে স্যারকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য জমি ক্রয় ও মান সম্মত বাড়ি তৈরী করার প্রক্রিয়া অব্যহত রাখেন এবং স্যারকে টিউশনি করা ও দুই ঈদে বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

স্কুল কতৃপক্ষ মোঃ রহিচ উদ্দিন (টিপু) স্যার এর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন।

তাছাড়াও, স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন পালু প্রতি মাসে স্যারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা করার অভিমত ব্যক্ত করেন।

জনাব, রহিচ উদ্দিন টিপু স্যার শিক্ষার্থীবৃন্দের এমন উদ্দোগকে  উদার মনোভাব ও দৃষ্টান্তমূলক আখ্যা দেন ও সকলশিক্ষার্থী, শিক্ষকমণ্ডলী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের  প্রতি অশ্রু সিক্ত হয়ে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন,  কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ্যাডঃ মোঃ আতিক স্যার, (আক্কেলপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ)। আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ মোতালেব, বর্তমান প্রধান শিক্ষক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রানা স্যার, সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন পালু এবং অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলী ও শিক্ষার্থী বৃন্দ।

সহকারি প্রধান শিক্ষক কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা আক্কেলপুর জেলা জয়পুরহাট এ কর্মরত ছিলেন। যার ইন্ডেক্স নাম্বার ৫৫৩৩৪৫ তাছাড়াও ২০১৮ সালে এসএসসি ইংরেজি প্রথম পেপার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষকও ছিলেন, কোড নাম্বার ৬০২৫।

উক্ত শিক্ষাগুরু মোঃ রইছ উদ্দিন ২৪ শে মে ২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার পর সংসারের চাহিদা যোগাতে না পেরে তিনি ঢাকা গমন করেন প্রতিবন্ধী হওয়ায় কারণে কোনো ধরনের কাজ না পেয়ে তিনি নিজ এলাকাতে ফিরে আসেন। তারপর অনেক জায়গাতে কাজ না পেয়ে অবশেষে রেড প্লেস রেস্টুরেন্টে জয়পুরহাট হোটেলে বয় হিসেবে চাকরি নেন।
কাজের মজুরি হিসেবে তিনি প্রতিদিন ২০০ টাকা মজুরি পান, সেই মজুরি দিয়ে দুই মেয়ে স্ত্রীসহ সংসার চলে, খেয়ে না খেয়ে, তাছাড়াও ভাড়া ঘরে, শুধু তাই নয় তার স্ত্রীও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তার প্রথম মেয়ের বয়স ৮ বছর এবং দ্বিতীয় মেয়ের বয়স দেড় বছর তার নিজস্ব কোন ধরনের জায়গা বাড়ি নেই, তিনি জয়পুরহাট রেললাইনের পাশে একটি টিন সেটের বাড়িতে ৯০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় ভাড়া থাকেন, তার বড় মেয়ের শরীরে একটি ছেঁড়া কামিজ দেখে মনে হচ্ছে কতদিন ধরে কামিজটা পরিষ্কার করা হয়নি এবং ছোট মেয়েটা বড় মেয়ের কোলে। যখন শিক্ষক কে প্রশ্ন করা হয় যে তার বড় মেয়ের বয়স যখন আট বছর তাহলে কেন আপনি স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি , তখন সে বলেন চোখে অশ্রু ভরা জল নিয়ে উদাসিন ভাবে বলে আমি একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়েও যখন হোটেলে, হোটেল বয়ের কাজ করতে হচ্ছে, তাহলে আমার মেয়েকে স্কুলে দিয়ে লাভ কি।

বেসরকারি শিক্ষক অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতার জন্য দুইটা আলাদা আবেদন করছেন, একটি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে, যার নাম্বার ID-S ৮৮৪৮৮৮৯১২ তারিখ ২৪|০৯|২০ইং আর দ্বিতীয়টি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টে s- ৫৯৬৭৭২৬৩০ তারিখ ২৪|০৯|২০ ইং।

একজন শিক্ষক কে অবসর নেওয়ার পর হোটেল বয়ের চাকরি করতে হয় তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশে শিক্ষকতা পেশাকে উচ্চশিক্ষিত ব্যাক্তিদ্বয় এই পেষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং শক্তিশালী জাতী তৈরী হবে না ও কোন মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় অনুপ্রাণিত হইবে না।

বেসরকারি স্কুল-কলেজ–মাদ্রাসার যেসব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর ভাতা ও কল্যাণ সুবিধার টাকা না পেয়ে বছরের পর বছর নিদারুণ সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের ব্যথা সরকার আদৌ উপলব্ধি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কেননা, তাঁদের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারলে বাস্তবোচিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চয়ই এত দিনে গৃহীত হতো। যে মানুষগুলো সারা জীবন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সেবা দিয়ে গেছেন, তাঁদেরই এখন জীবনের এই পর্যায়ে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটি জাতির জন্য লজ্জার।

জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমি যাচাই করে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিব।

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর ভাতা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য, সচিব শরীফ আহমেদ সাদী মহোদয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ও আশ্বাস দেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উক্ত শিক্ষকের ভাতার ব্যবস্থা করা হইবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।