fbpx

“প্রতিশ্রুতি ভিলা” -

কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দোগে নির্মিত বাড়ি “প্রতিশ্রুতি ভিলা” -এর শুভ উদ্বোধন

১৯৯৭ সালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রইস উদ্দিন টিপু। সেই সময় কানুপূর উচ্চ বিদ্যালয় ছিল একটা সদ্য স্থাপিত নতুন স্কুল। দীর্ঘদিন পর তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হন। সহকারি প্রধান শিক্ষক কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা আক্কেলপুর জেলা জয়পুরহাট এ কর্মরত ছিলেন। যার ইন্ডেক্স নাম্বার ৫৫৩৩৪৫ তাছাড়াও ২০১৮ সালে এসএসসি ইংরেজি প্রথম পেপার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষকও ছিলেন, কোড নাম্বার ৬০২৫। ২২ বছর শিক্ষকতা জীবন পার করার পর ২০১৮ সালে অবসরে যান তিনি।

স্যার চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ কালে সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পরে সর্বস্ব হাড়িয়ে বিপর্যয় সীমা পেরিয়ে যখন নিম্ন পেশায় নিমজ্জিত হয়।  স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ চারজনের সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা। শেষে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে শুরু করেন দিনমজুরের কাজ। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়।

তারপর প্রিয় শিক্ষকের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ (১৯৯৮ থেকে ২০২১ ব্যাচ)  সঙ্গে যোগাযোগ করে ফান্ড সংগ্রহ করে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ দফায় দফায় আলোচনা সভার মাধ্যমে স্যার কে তার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে প্রয়াস চালিয়ে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ই ডিসেম্বর ২০২০ ইং কানপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় স্যারকে স্থায়িত্বকরণ ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দেওয়ার বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দরা মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। উক্ত আলোচনা সভায় কানুপুর গ্রামে স্যারকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য জমি ক্রয় ও মান সম্মত বাড়ি তৈরী করার বিষয়ে তারা এক মত পোশন করেন। এছাড়াও তার সমস্ত ভরন-পোশনের দায়িত্বও তারা নেন।

এই কাজটি ব্যাস্তবায়নের জন্য “Kanupur High School Ex-Students Forum”  মোঃ হিরু রহমান (1998) কে আহব্বায়ক করে একটি সংগঠন গঠন করা হয়।

যুগ্ন আহব্বায়ক হিসেবে সহযোগিতা করেন মীর সাফী মাহমুদ সৈকত (2003), মোঃ মোস্তাকিম হোসেন রনি (2004), নিগার সুলতানা (2005), আব্দুর রাজ্জাক সুইট (2010), শুভ (2011)

এদিকে বিষয়টি নাড়া দেয় আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)। তিনি পরে ওই শিক্ষকের হাতে অনুদানের একটি চেক তুলে দেন।

এই সংগঠনটি বাড়ি নির্মানের কাজ করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পরলে। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার দানশীল ব্যক্তি। প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রিয় শিক্ষকের জন্য প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের অর্থয়নে জমি কিনে সেই জমিতে বাড়ি নির্মান সহ তার স্থায়ী কর্ম সংস্থানের পথ তৈরি করে দেয়া সত্যিই ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। 

প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে “KANUPUR EX-STUDENT’D FORUM” জানায় “সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো আমরা আর ও অনেক কিছু করতে পারিনি। তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আমাদের দাবি আমাদের প্রিয় শিক্ষক যেনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায় তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করার জন্য।”

বর্তমান প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত উদ্দোগে বেসরকারি শিক্ষক অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতার জন্য দুইটা আলাদা আবেদন করছেন, একটি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে, যার নাম্বার ID-S ৮৮৪৮৮৮৯১২, তারিখ ২৪|০৯|২০২০ইং আর দ্বিতীয়টি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টে s- ৫৯৬৭৭২৬৩০, তারিখ ২৪|০৯|২০২০ ইং।

“শিক্ষাগুরুর মর্যাদা” সঠিক ভাবেই দিতে পেরেছে কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রক্তন শিক্ষর্থীরা। 

জয় হক শিক্ষক-শির্ক্ষাথী এই মধুর ভালোবাসার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।