fbpx

মেসির সঙ্গে দেখা করতে সাইকেল চালিয়ে গেলেন রাশিয়া

প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা করার জন্য ভারতের কেরালা থেকে সাইকেল চালিয়ে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন ক্লিফিন ফ্রান্সিস নামের এক ব্যক্তি। কী করে সম্ভব হলো এই কাজ?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের আগস্টে। ক্লিফিন ফ্রান্সিস কেরালার একজন ফ্রিল্যান্স অঙ্কের শিক্ষক। তার এক বন্ধু নেহায়েতই কৌতূহলে জিজ্ঞেস করে বসে, তিনি ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যাবেন কি না। ফ্রান্সিস সিদ্ধান্ত নেন, তিনি বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া যাবেন; এই ফাঁকে প্রিয় ফুটবলার মেসির সঙ্গেও দেখা হতে পারে।

রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনায় প্রথমেই বাদ সাধে আর্থিক টানাপড়েন। রাশিয়া গিয়ে আবার এক মাস সেখানে থাকার মতো সামর্থ্য নেই ফ্রান্সিসের। তাহলে উপায়? তিনি সাইকেল চালিয়েই রাশিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করেন ফ্রান্সিস। প্রথমে তিনি বিমানে করে দুবাই যান। এরপর এক ফেরিতে করে ইরানে পৌঁছান। সেখান থেকে আরও ৪,২০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। ইরানের মধ্য দিয়ে সাইকেলেযাত্রা করতে গিয়ে সে দেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন ফ্রান্সিস।

ইরান থেকে আজারবাইজানে যাওয়ার সময় বিপত্তিতে পড়েন ফ্রান্সিস। সাইকেল চালিয়ে ইরান পার হতে গিয়ে ওজন কমে গিয়েছিল তার, সীমান্তের পুলিশ পাসপোর্টের সঙ্গে তার চেহারার মিল খুঁজে পাচ্ছিল না। আট ঘণ্টা পর তাকে ছাড়ে পুলিশ।

আজারবাইজান থেকে জর্জিয়া হয়ে রাশিয়া যাওয়ার পথে আটকে যান ফ্রান্সিস। সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও জর্জিয়ার সীমান্ত থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আজারবাইজান এবং জর্জিয়ার সীমান্তে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়েন তিনি। এরপর আজারবাইজান তাকে জরুরি ভিসা দেয়। তিনি জানতে পারেন, আজারবাইজান থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দাগেস্তানে প্রবেশ করা যায়। তবে সে এলাকাটি বিপজ্জনক। উপায় না দেখে দাগেস্তান দিয়েই রাশিয়ায় প্রবেশ করেন ফ্রান্সিস।

৫ জুন দাগেস্তান দিয়ে রাশিয়ায় পৌঁছান ফ্রান্সিস। বর্তমানে তিনি তামবভ শহরে আছেন। সেখান থেকে মস্কোর দূরত্ব ৪৬০ কিলোমিটার। এই লম্বা সফরে বেশির ভাগ সময়ই তাঁবু খাটিয়ে, কম খরচে দিন পার করেছেন ফ্রান্সিস।

মেসির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে থাকলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলার টিকেট পাননি ফ্রান্সিস। তিনি ২৬ জুনের ফ্রান্স বনাম ডেনমার্কের খেলার টিকেট পেয়েছেন। সময়মতো মস্কো পৌঁছাতে পারবেন কি না তাই ভাবছেন তিনি।

ক্লিফিন ফ্রান্সিস আশা করছেন, তার এই গল্প অনেকের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগাবে, তাদের মাঝে সাইকেল চালানোর উৎসাহ তৈরি হবে। সেই সঙ্গে ভারতের শিশুদের মাঝে ফুটবল খেলার উৎসাহও তৈরি হবে বলে তিনি আশা করেন।

https://currentbdnews24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *